পাকিস্তান আবারও প্রমাণ করল—কেন তারা অনিশ্চয়তার দল

পাকিস্তান আবারও প্রমাণ করল—কেন তারা অনিশ্চয়তার দল

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তান মানেই নাটক, অপ্রত্যাশিত মোড় আর শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেটাই আবার প্রমাণ করল পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত ফলাফল

নেদারল্যান্ডস: ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রান
পাকিস্তান: ১৯.৩ ওভারে ১৪৮/৭
ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী

সহজ ম্যাচকে কঠিন করে তোলার গল্প

রান তাড়ায় একসময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ ওভারে ৫০ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট। ক্রিজে তখন বাবর আজম ও সাহিবজাদা ফারহান। এমন অবস্থায় ম্যাচ সহজেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পাকিস্তান মানেই অনিশ্চয়তা। ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে হারায় ৫ উইকেট। মুহূর্তেই ম্যাচ ঘুরে যায় নেদারল্যান্ডসের দিকে।

শেষ দুই ওভারে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২৯ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে তখন ফাহিম আশরাফশাহিন শাহ আফ্রিদি

১৯তম ওভারে লোগান ফন বিকের এক ওভারে ৩ ছক্কা ও ১ চার হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফাহিম। ওই ওভারে ২৪ রান নেওয়ার পর শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান দরকার হয়, যা তিন বলেই তুলে নেয় পাকিস্তান।

ম্যাচসেরা ফাহিম আশরাফ

শেষদিকে ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেই থামেননি ফাহিম। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয় এনে দেন তিনি। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই।

বাবর আজমের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

এই জয়ের পরও পাকিস্তানের জন্য আলোচনার জায়গা হয়ে থাকছে বাবর আজমের ব্যাটিং পজিশন ও ইনিংসের গতি। চার নম্বরে নেমে সুবিধাজনক পরিস্থিতিতেও ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি, যা দলের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করে।

পাকিস্তানের ফিল্ডিংয়ে চমক

যে দলটি প্রায়ই বাজে ফিল্ডিংয়ের জন্য সমালোচিত হয়, সেই পাকিস্তানই এদিন ধরেছে মোট ৯টি ক্যাচ। বিশেষ করে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদির যৌথ প্রচেষ্টায় মাইকেল লেভিটের ক্যাচটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

উইকেটকিপার উসমান খানও ম্যাক্স ও’ডাউডকে দৃষ্টিনন্দন ক্যাচে আউট করে প্রশংসা কুড়ান।

নেদারল্যান্ডসের ভালো শুরু, শেষদিকে ধস

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নেদারল্যান্ডস পাওয়ার প্লেতে তোলে ৫০ রান। ১২.১ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ১০০/৩। বড় সংগ্রহের আভাস থাকলেও শেষ ৫ ওভারে মাত্র ২৬ রান করতে গিয়ে ৬ উইকেট হারায় তারা।

পরবর্তী ম্যাচ কবে

গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচ ১০ ফেব্রুয়ারি, প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক না করলে সামনে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

Related posts